সিদ্দিকুর হতে চান ফরহাদ

দেশসেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমানের মতো হতে চান মো. ফরহাদ। অ্যামেচার গলফার হিসেবে গত ছয় বছর ধরে খেলে চলেছেন। আগামীকাল থেকে ঘরের কোর্স কুর্মিটোলায় বসতে যাচ্ছে এশিয়ান ট্যুর ‘বঙ্গবন্ধু কাপ গলফ ওপেন টুর্নামেন্ট’। এ আসরের মধ্য দিয়ে পঞ্চমবারের মতো এশিয়ান ট্যুর আয়োজকের খাতায় নাম তুলবে বাংলাদেশ। ২২ দেশের ১৪৬ জন গলফার এতে অংশ নেবেন। যাতে স্বাগতিক বাংলাদেশের ৪০ জন পেশাদার এবং ৫ জন অ্যামেচার প্রতিযোগী। পাঁচ অ্যামেচারের একজন কুমিল্লার মো. ফরহাদ। অ্যামেচারদের মধ্যে যার র‌্যাংকিং আবার এক নম্বরে (জাতীয় দলে)।

সিদ্দিকুরের জীবনের সঙ্গে খানিকটা মিল রয়েছে ফরহাদের! কুর্মিটোলায় বল বয় হিসেবে গলফের সঙ্গে গাঁটছড়া সিদ্দিকুরের। এর পর ক্যাডি, অ্যামেচার থেকে পেশাদার গলফারের উন্নীত হওয়া। ময়নামতি গলফ অ্যান্ড কান্ট্রি কোর্স ক্লাবের হয়ে ২০০৫ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে বল বয় হিসেবে শুরু ফরহাদের। সেখান থেকে ক্যাডিতে উন্নীত হয়ে ২০১২ সালে বৃত্তি পেয়ে অ্যামেচার গলফার হিসেবে খেলোয়াড়ি জীবনে প্রবেশ। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ গেমস দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু। গত ছয় বছর ধরে অ্যামেচার গলফার হিসেবে খেলে যাচ্ছেন সদ্যই পঁচিশে পা দেওয়া ফরহাদ। সিদ্দিকুরের সঙ্গে ফরহাদের জীবনের মিল শুধু বল বয় থেকে অ্যামেচার হওয়া পর্যন্তই। একই গল্প অবশ্য দেশের অন্য গলফারদের জীবনেও। সজীব, সোহেলরা ঠিক এভাবেই পেশাদার জগতে পা রেখেছেন। মিলের অংশটুকু তুলে রাখলে সিদ্দিকুর-ফরহাদের অমিল আসলে লিখে শেষ করা যাবে না।

সিদ্দিকুর বিশ^কাপ আসরে খেলা, দুবার এশিয়ান ট্যুর জেতা দেশের একমাত্র খেলোয়াড়। সিদ্দিকুর যখন নিজের প্রথম এশিয়ান ট্যুর শিরোপায় চুমু আঁকেন; ঠিক সেই বছরই অ্যামেচার গলফার হিসেবে খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেন ফরহাদ। অভিজ্ঞতায় হাঁটুর বয়সী হলেও সিদ্দিকুর হওয়ার স্বপ্ন দেখেন ফরহাদ। মানেন আদর্শ। বঙ্গবন্ধু কাপ গলফ টুর্নামেন্ট দিয়ে ক্যারিয়ারে আরেক ধাপ এগোতে চান এই অ্যামেচার। ঘরের কোর্সে পঞ্চমবারের মতো এশিয়ান ট্যুর হলেও তাতে চতুর্থবার খেলতে যাচ্ছেন ফরহাদ। প্রথম আসরে খেলা হয়নি তার। আগের তিন আসরের পারফরম্যান্স অবশ্য আশাব্যঞ্জক নয়। কাটই এড়াতে পারেননি (দ্বিতীয় রাউন্ডে বাদ পড়েছেন)। এবার অবশ্য ভিন্ন লক্ষ্য। বঙ্গবন্ধু কাপে নিজের সেরাটা দিয়ে দেশের জন্য ভালো একটা রেজাল্ট বয়ে আনতে চান। ছয় বছর ধরে অ্যামেচার হিসেবে খেলছেন। বঙ্গবন্ধু কাপের পর অ্যামেচারি জীবনের অবসান ঘটানোর ইচ্ছা রয়েছে। টুর্নামেন্টে ভালো ফল করলে সহজেই পেশাদারের ট্যাগ লেগে যাবে। ফল ভালো না হলে সে ক্ষেত্রে কিছুটা কষ্ট করতে হবে।

পেশাদার হওয়ার জন্য প্রথমে ফেডারেশনে আবেদন করতে হবে। কাগুজে আরো কিছু নিয়মও রয়েছে, তার পর ১৫ হাজার টাকা জমা দেওয়ার পর মিলবে পেশাদার খেলোয়াড়ের টিকিট। সেটাও ফেডারেশনের মর্জির ওপর। কারণ এ মুহূর্তে জাতীয় দলে ভালো মানের খেলোয়াড় সংকট রয়েছে। এ কারণেই তো এত দিন ধরে অ্যামেচার গলফার ফরহাদ! ব্যক্তিগত স্পন্সর মজিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এবং ফেডারেশনের সহায়তায় খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন ফরহাদ। মাঝে মধ্যে সিদ্দিকুরও সহায়তা করেন। বাবা-হারা সংসারে মা, চার ভাই, এক বোন ফরহাদের। পেশাদার হতে পারলে কিছুটা আয়-রোজগারের মুখ দেখবেন। বঙ্গবন্ধু কাপে কি সেই স্বপ্ন পূরণ হবে ফরহাদের?

Back to top